নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ আর নেই । শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন হুমায়ূন আহমেদ। নয় মাস একটানা লড়াই করেছিলেন বেঁচে থাকার জন্য, পারলেন না। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় বেলা একটা ২০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। মৃত্যুর সময় তাঁর শয্যাপাশে ছিলেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, শাশুড়ি তহুরা আলী, সস্ত্রীক ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল, দীর্ঘদিনের প্রকাশক বন্ধু মাজহারুল ইসলাম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা মোমেন।
নয় মাস আগে চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে আসার পরপর হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। ক্যানসার কঠিন রোগ, কিন্তু সে রোগকে পরাস্ত করতে পারবেন—এমন বিশ্বাস তাঁর ছিল। তিনি জানালেন, সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য। সে সময় কী মনে হওয়ায় ভাবলেন, নিজের শরীর চেকআপ করিয়ে নেবেন। তখনই ধরা পড়ল কোলন ক্যানসার, তা-ও বেশ অগ্রসর পর্যায়ে। তড়িঘড়ি করে নিউইয়র্কে এসে ভর্তি হন বিশ্ববিখ্যাত ক্যানসার হাসপাতাল স্লোওন ক্যাটারিংয়ে। প্রথম দুটি কেমো থেরাপি সেখানে দেওয়ার পর তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে। পর পর দুটি সফল অস্ত্রোপচার এই হাসপাতালেই হয়।
সফল অস্ত্রোপচারের পরও হুমায়ূন আহমেদ চলে গেলেন মূলত অস্ত্রোপচারোত্তর জটিলতা থেকে। এমনিতে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, তার ওপর প্রথম অস্ত্রোপচারের পর জটিল সংক্রমণে আক্রান্ত হন। সে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রক্তে ও টিস্যুতে। দ্রুত কমতে থাকে রক্তচাপ, বাধাগ্রস্ত হয় শরীরের রক্তপ্রবাহ। বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ত্রোপচার করা হয়, কিন্তু সময় ততক্ষণে ফুরিয়ে এসেছে। ড. মিলার জানান, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর আশু কারণ শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা, হূদ্যন্ত্রের বৈকল্য ও কিডনির ক্রমব্যর্থতা। জীবনের শেষ দিনগুলো প্রবল শারীরিক বেদনার ভেতর দিয়ে কাটিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। বেদনা উপশমের জন্য কড়া মাত্রার ওষুধ দিয়ে তাঁকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।
এই প্রতিভাবান লেখকের মৃত্যু আমরা এখনো মেনে নিতে পারছি না। মনে হচ্ছে, হুমায়ূন এখনো আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আমরা বন্ধুর মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
